যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ ও পাকিস্তানি শিক্ষার্থীদের ভর্তি সীমিত করছে | UK Visa Update 2025

UK University Admission Bangladesh Pakistan

যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ ও পাকিস্তানি শিক্ষার্থীদের ভর্তি সীমিত করছে

যুক্তরাজ্যের অন্তত নয়টি বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের শিক্ষার্থীদের ভর্তি সীমিত বা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মূল কারণ হলো ভিসা প্রক্রিয়ার অপব্যবহার বৃদ্ধি এবং ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কঠোর অভিবাসন নীতি। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই দুই দেশকে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

UK University Admission Bangladesh Pakistan | কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি সীমিত করেছে?

চেস্টার ইউনিভার্সিটি

পাকিস্তান থেকে ২০২৬ সালের শরৎ পর্যন্ত ভর্তি স্থগিত।

উলভারহ্যাম্পটন ইউনিভার্সিটি

বাংলাদেশ ও পাকিস্তান থেকে স্নাতক পর্যায়ের আবেদন গ্রহণ বন্ধ।

ইস্ট লন্ডন ইউনিভার্সিটি

পাকিস্তান থেকে ভর্তি স্থগিত।

সান্ডারল্যান্ড ও কভেন্ট্রি বিশ্ববিদ্যালয়

উভয় বিশ্ববিদ্যালয় একই ধরনের সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে।

অক্সফোর্ড ব্রুকস

আগামী জানুয়ারি সেশনে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান থেকে স্নাতক ভর্তি আপাতত বন্ধ।

লন্ডন মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি

ভিসা বাতিলের উচ্চ হার দেখিয়ে বাংলাদেশ থেকে ভর্তি স্থগিত।

BPP ইউনিভার্সিটি

‘ঝুঁকি প্রশমন’ কৌশল হিসেবে পাকিস্তান থেকে ভর্তি স্থগিত।

UK University Admission Bangladesh Pakistan | কেন এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো?

ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২০২৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভিসা স্পনসর লাইসেন্স সংক্রান্ত কমপ্লায়েন্স নিয়ম পরিবর্তন করেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার ৫% এর বেশি দেখতে পারবে না।

ভিসা বাতিলের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান:

  • পাকিস্তানি শিক্ষার্থীদের ভিসা বাতিলের হার: ১৮%

  • বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা বাতিলের হার: ২২%

উল্লেখযোগ্যভাবে, বাতিল হওয়া সব আবেদনের অর্ধেকেরও বেশি এসেছে এই দুই দেশ থেকে।

বিদেশি শিক্ষার্থীদের আশ্রয় আবেদন বৃদ্ধি

বাংলাদেশি ও পাকিস্তানি নাগরিকদের আশ্রয় আবেদনের সংখ্যা বেড়েছে। এদের বেশিরভাগই কর্ম বা স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে ব্রিটেনে গিয়েছিলেন।

বিশেষজ্ঞদের মতামত

লাহোরভিত্তিক শিক্ষা পরামর্শক সংস্থা অ্যাডভান্স অ্যাডভাইজরস বলছে, শেষ মুহূর্তে ভিসা প্রত্যাখ্যান হওয়ার ফলে প্রকৃত শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যথাযথভাবে বিদেশি এজেন্ট যাচাই না করায় জাল আবেদন বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা আরও সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। যারা যুক্তরাজ্যে পড়াশোনার পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য এখন নতুন নিয়ম ও ভিসা প্রক্রিয়া সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ ও পাকিস্তান থেকে আবেদনকারী শিক্ষার্থীদের সতর্ক থাকা এবং অনুমোদিত এজেন্ট ব্যবহার করা উচিৎ।

FAQ – প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

Q1: কোন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বাংলাদেশ ও পাকিস্তান থেকে ভর্তি সীমিত করেছে?
A1: চেস্টার, উলভারহ্যাম্পটন, ইস্ট লন্ডন, সান্ডারল্যান্ড, কভেন্ট্রি, অক্সফোর্ড ব্রুকস, লন্ডন মেট্রোপলিটন এবং BPP ইউনিভার্সিটি।

Q2: নতুন ভিসা নিয়ম কীভাবে পরিবর্তিত হয়েছে?
A2: বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখন ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার ৫% এর বেশি দেখতে পারবে না, আগের সীমা ছিল ১০%।

Q3: ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার কত?
A3: পাকিস্তানি শিক্ষার্থীদের ভিসা বাতিলের হার ১৮%, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ২২%।

Q4: কেন শিক্ষার্থীদের ভর্তি সীমিত করা হয়েছে?
A4: ভিসা প্রক্রিয়ার অপব্যবহার, উচ্চ প্রত্যাখ্যান হার এবং ব্রিটিশ অভিবাসন নীতির চাপের কারণে।

Q5: বাংলাদেশ ও পাকিস্তান থেকে আবেদনকারীদের কি সতর্কতা নেওয়া উচিত?
A5: হ্যাঁ, অনুমোদিত এজেন্ট ব্যবহার করা, সঠিক তথ্য প্রদান করা এবং ভিসা প্রক্রিয়ার নিয়ম মেনে চলা জরুরি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *